দুর্লভ শতবর্ষী বন চালতা

জুলাই 16, 2024
by

 আষাঢ়ের বিকেল। রাঙামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন  মাইনী বন বিশ্রামাগারের সীমানায় চোখে পড়ল অচেনা এক বৃক্ষ। দেখতে পুরোপুরি চালতার মতো। তবে চেনা চালতা ফলের বদলে এখানে ঝুলছে থোকায় থোকায় কমলা রঙের ছোট ফল। দেখতে অনেকটা ডুমুরের মতো।
ভালো করে খেয়াল করলে দেখা গেল ডুমুর নয়। বেশ বয়সী বৃক্ষ। উচ্চতাও কম নয়। পুরো বাংলোজুড়ে প্রাচীন সব বৃক্ষ। তবে ফলের কারণে এই গাছটিকে আলাদা মনে হল। গোটা গাছ জুড়ে বড় বড় সবুজ পাতা। বিশ্রামাগারের সীমানা ঘেঁষে চলে গেছে মাইনী বাজারের সড়ক। সড়কের উপর পড়ে আছে প্রচুর ফল। হাতে তুলে নেওয়ার পর কৌতুহলী হয়ে উঠলাম। অচেনা এই ফলের নাম কি?
পাবলাখালীর চিরসবুজ বন ঘুরেও যে ফল দেখা যায় না। লোকালয়ের এই পুরনো বাংলোর সীমানা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষে তা দেখা গেল। গাছের ডালে থোকায় থোকায় ধরে থাকা ফলের ছবি তুললাম। পরিচয় জানতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবিগুলো পোস্ট করা হলো। স্থানীয় অনেকেই তাতে সাড়া দিয়ে জানালো- এর নাম অগোয্য। তবে বৃক্ষটির আসল পরিচয় নিশ্চিত করে নির্সগবিদ মোকারম হোসেন জানালেন এটির নাম বন চালতা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বন বিভাগের আওতাধীন মাইনী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সজীব মজুমদার জানান, বন চালতা গাছটির বয়স প্রায় শত বছর। ১৯২৭ সালে মাইনীতে রেঞ্জ কর্মকর্তার এই বিশ্রামাগারটি নির্মাণ করা হয়। এর দশ বছর আগে থেকেই বনচালতার গাছটি সেখানে ছিল। এটি কেউ রোপণ করেনি। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে। সেই হিসেবে এই গাছের বয়স হবে প্রায় একশ বছর। বন চালতা খুব ধীরে বড় হয়। তাই এটির আকার দেখে বয়স বুঝা যায় না। ’
স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানুষ চাকমারা এটিকে অগোয্যা বলে ডাকে। বনচালতার ফুল মাঝেমধ্যে পাহাড়ের হাটগুলোতে বিক্রি করতে দেখা যায়। এটিকে সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। স্থানীয়রা এটিকে ভেষজ ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করে বলে জানা যায়। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া বৃক্ষটির কাঠ বেশ মূল্যবান। স্থানীয়ভাবে এই গাছের কদর রয়েছে। বনচালতার ইংরেজি নাম ‘ডগ টিক’ বা নেপালি এলিফ্যান্ট আপেল। বনচাতলা চালতারই সমশ্রেনী। এটি মূলত মাঝারি আকারের বৃক্ষ হলেও শতবর্ষী এই বনচালতা বেশ বড়সড়। পাতা দেখতে একেবারেই চালতা গাছের মতো, খাঁজকাটা।
বন বিভাগের কর্মীরা জানান,‘ শুষ্ক মৌসুমে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। আর বর্ষার শুরু থেকেই পুরো বৃক্ষটি ফুল আর পাতায় ভরে যায়। বর্ষা জুড়ে পুরো গাছে ফল থাকে। আঁকার মার্বেল সাইজের। কমলা হলুদ রঙে মোড়ানো। ফলের উপর হালকা ঢেউ থাকে। তবে বন চালতা খাওয়া যায় না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও সিলেট ও টাঙ্গাইলে দেখা যায় এই বনচালতা ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

Don't Miss

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল নিহন হিদানকিও

চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেল জাপানি সংস্থা নিহন হিদানকিও। রয়্যাল

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা আজ

আজ মঙ্গলবার সুইডেনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট অনুযায়ী বাংলাদেশ
chief adviser dr. unus

ঢাকার যানজট সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ

ঢাকার যানজট সমস্যা দূর করার জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
mashrafe

যুক্তরাষ্ট্র টি-১০ লিগ দিয়ে ক্রিকেটে ফিরছেন মাশরাফি

যুক্তরাষ্ট্র মাস্টার্স টি-১০ লিগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের
dr. yunus

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈষম্য বিরোধী

সবার জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাক্ষরতার অভীষ্ট লক্ষ্য

ঐতিহাসিক জয়, যা ভাষায় প্রকাশ করার মত না : শান্ত

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়কে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুগান্তকারী
chief adviser dr. unus

শিল্প প্রবৃদ্ধিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ব্যবসায়ী নেতাদের সহায়তা প্রদানে প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের শিল্প প্রবৃদ্ধিকে নতুন

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বাংলাদেশের

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতলো বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম

বন্যার্তদের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের এক দিনের বেতনের অর্থ প্রদান

বন্যার্তদের সহায়তায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের

ইসরায়েলিদের জন্য ভিসা সীমিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ২০টিরও বেশি

অচিরেই দেশে নতুন বিভাগ ঘোষণা

অচিরেই দেশে নতুন বিভাগ ঘোষণার বিষয়ে কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার,

প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশ পুনর্গঠনে সহায়তা চেয়েছেন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশ পুনর্গঠন,