স্থগিত করা হয়েছে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ব্যাংক হিসাব ।আজ মঙ্গলবার ব্যাংক হিসাব স্থগিতের এ নির্দেশনা দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে পর্যন্ত তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ছিলেন।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইউ) একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের সন্দেহে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিএফআইউর দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে যদি কোনো ব্যাংক হিসাব থাকে, তাহলে সেই হিসাবের সকল লেনদেন আগামী ৩০ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। এছাড়াও, তাঁদের নামে যদি কোনো লকার থাকে, তাহলে সেটিও আগামী ৩০ দিনের জন্য ব্যবহারের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ওবায়দুল কাদেরের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের চিঠিতে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর এবং জন্ম তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে পাশাপাশি তাঁর মা–বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। । বিএফআইইউর কাছে লেনদেন স্থগিতের পাশাপাশি সব ব্যাংক হিসাবের সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল, যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী প্রভৃতি তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট, দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৫ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ওবায়দুল কাদের হুমকি দিয়েছিলেন যে, “জবাব দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগ প্রস্তুত” রয়েছে। তার এই হুমকির পরপরই আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর ছাত্রলীগের কর্মীরা চড়াও হয়।