রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, বসিলাসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আতঙ্কের নাম জিল্লুর বাহিনী।
দখল, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিগত অনেক বছর ধরেই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে এই বাহিনীর সদস্যরা। গত কয়েক বছরে তৈরি করেছে বিভিন্ন কিশোরগ্যাং। এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের তাণ্ডবে আতঙ্কে দিন কাটান এলাকার লোকজন। বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করার পর কয়েকদিন নীরবে থাকলেও আবার আগের মতোই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে এই বাহিনী।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী মোজাম্মেল হকের হয়ে কাজ করা জিল্লুর বাহিনীর প্রধান ৪২ মামলার আসামি মো. খোন্দকার জিল্লুর রহমান মোহম্মদপুরসহ আশেপাশের এলাকায় আবারও দখল চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। বিগত সময়ে দখলের অনন্য নজির স্থাপন করা জিল্লুর বাহিনীর এখন নজর পড়েছে গ্রাম বাংলা হাউজিং প্রকল্পের দিকে। এজন্য আতঙ্ক সৃষ্টি করতে গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা দিকে ঢাকা উদ্যানের ট্রলারঘাটে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় জিল্লুর বাহিনী। এ বিষয়ে গ্রাম বাংলা হাউজিং কর্তৃপক্ষ পুলিশ ও স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাক্যাম্পেও অবগত করেছে।
এর আগে ২২ আগস্ট সাভার থানায় জিল্লুর ও তার বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সদস্যদের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগে সাধারন ডায়েরি করেছেন গ্রাম বাংলা হাউজিংয়ের পরিচালক হাফিজ মোহম্মদ ইদ্রিস। অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. খোন্দকার জিল্লুর রহমান এবং তার গ্রুপের সদস্য মো. সালমান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মিজান, মো. শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন গ্রাম বাংলা হাউজিংয়ের কর্মকর্মতা কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে প্রকল্পটি জোর করে দখলের চেষ্টা করে। জিল্লুর বাহিনী সবাইকে হুমকিধমকি দেয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, জিল্লুর আকাশ নীলা হাউজিংয়ের নামে জাল কাগজপত্র তৈরি করে দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় সন্ত্রাসী আমীর ওরফে কানা আমীর, ফাইটার বেলাল ওরফে দাতভাঙ্গা বেলাল, রাজিব ওরফে জুয়ারু রাজিব, শাহজাহান ওরফে সুটার শাহজাহান, সুমন ও রাসেলের মাধ্যমে জিল্লুর বাহিনী জমি দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে। অন্যদিকে গ্রাম বাংলা হাউজিংয়ের পরিচালকদের অধিকাংশই বিগত সরকারের বিপরীত আদর্শের। এই কারণে গত ১৪ বছরেও এই প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়নি। সেই সময় বারবার হানা দিয়েছে এই জিল্লুর বাহিনী। গত ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের শাসনের অবসান হলে এই হাউজিং দ্রত সময়ে শেষ করার ভাবনা ছিল প্রকল্পের পরিচালকদের। কিন্তু জিল্লুর বাহিনী বিএনপির স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে এই প্রকল্প দখলের পাঁয়তারা করছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতা যদি এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে তা জানার সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো বাহিনীর কোনো অপকর্ম করার সুযোগ নেই।