জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বাংলাদেশকে গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা সামদাসানি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বলপূর্বক গুমের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছে। এই ইস্যুতে জাতিসংঘ বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের এই স্বাক্ষরকে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এটি নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশ মানবাধিকার সুরক্ষায় আরও বেশি করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক সনদ গৃহীত হয় গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষা দিতে। বৃহস্পতিবার গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদে সই করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল ।
রাভিনা সামদাসানি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য একটি পাঁচ সদস্যের জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। এই উদ্যোগকে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, “আমরা এই কমিশনকে তাদের কাজে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছি। কমিশন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুসারে নির্দেশনামূলক নীতিমালা তৈরি করবে।”
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবন, সবার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকারের অবস্থা উন্নত করার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও জনগণকে এই লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘ প্রস্তুত।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন সত্য অনুসন্ধান মিশন পরিচালনায় ভলকার তুর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে মুখপাত্র আরও বলেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে একটি তদন্ত দল পাঠানো হবে। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহার সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি, মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার অগ্রগতি সাধন এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য সুপারিশমালা পেশ করবে।