বাংলাদেশ সরকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করেছে। আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা আইন প্রয়োগ এবং জনসাধারণের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।
আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেতি প্রু’র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৯৮ এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত তারা এ দায়িত্ব পালন করবেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ ধারা অনুযায়ী সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে দেশব্যাপী সংঘর্ষ ও অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া।
ক্ষমতার পরিধি: সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এই ক্ষমতার মাধ্যমে তারা আইন ভঙ্গকারীদের গ্রেফতার, জামিন দেওয়া, মামলা পরিচালনা এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত কাজ করতে পারবেন।
সময়কাল: এই সিদ্ধান্ত আগামী দুই মাসের জন্য বলবৎ থাকবে এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।