ফেনীর সোনাগাজীতে হিন্দু বাড়িতে একটি ঘরে চলছিল গায়ে হলুদের আয়োজন, অন্যদিকে আরেকটি ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের গুনা দেওয়ানজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘরের মালিক কৃষ্ণ মজুমদার জানান, আমার জেঠাতো ভাইয়ের মেয়ের (ভাতিজি) গায়ে হলুদের আয়োজন চলছিল। পরিবার-আত্মীয়স্বজন সবাই আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। রাত ৯টার দিকে আমার স্ত্রী পলাশী মজুমদার আমাকে ডেকে বলে আমাদের ঘরের দিকে কিসের যেন আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে বসতঘরের কাছে গিয়ে দেখি আমার আরেকটি ঘরে আগুন জ্বলছে। ঘরের চালের টিনে আগুন ধরার কারণে শব্দ হচ্ছিল। তাৎক্ষণিক সবাইকে ডাকলে প্রতিবেশীরাসহ গিয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ততক্ষণে ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তিনি জানান, আগুনে ভস্মীভূত ঘরটি আমাদের পুরাতন বসতঘর। আমরা এখন বিল্ডিং ঘর করাতে এ ঘরে থাকা হয় না। ঘরটিতে গরু, কবুতর, হাঁস-মুরগি, লাকড়ি ও পুরাতন ফার্নিচার ছিল। আগুনে কবুতর, হাঁস-মুরগি, লাকড়ি ও ফার্নিচার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুন কিভাবে লাগল বুঝতেছি না। ঘরটিতে বিদ্যুতের কোনো সংযোগ ছিল না। কিছুদিন আগে বন্যা-পরবর্তী সময়ে এই ঘরের পাশে থাকা আমার খড়ের গোদায় কে বা কারা আগুন দিলে সব খড় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই।
একই বাড়ির বৃদ্ধ নিখিল মজুমদার বলেন, আমাদের ভয় দেখানোর জন্য কিছুদিন আগে খড়ের গোদায় আগুন দিয়েছে। আজকে এই ঘরে আগুন দিল। জন্মের পর থেকে কখনো ভয় পাইনি, কোনো অসুবিধায় পড়িনি, কেউ কখনো আমাদের ক্ষতি করেনি। এবারই প্রথম কেউ আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতেছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিভাবে আগুন লাগল এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারেনি।