বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার শেরেবাংলা থানার সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মো. তারিক হোসেন (১৮)। এবার এই শহীদের পরিবারকে জমি ও সেলাই মেশিন দিয়েছে গোমস্তাপুর উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে এক সভায় তারিকের পরিবারের কাছে জমির দলিল ও সেলাই মেশিন হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া এ সময় জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত মো. আল মামুন ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিশাত আনজুম অনন্যার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুস সামাদ বলেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সমন্বিত গণ-অভ্যুত্থানে দেশের জনগণ এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে। আমরা চাই আধুনিক ও বৈষম্যহীন সমাজ। বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না। যে কোনো প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্য এবং এটি আমরা যুগে যুগে দেখতে পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, যারা গণ-অভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছেন এবং যে মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন সবারই আত্মত্যাগ সফল হোক। সবাইকে নিয়ে আমরা যেন সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি।
নিহত তারিক হোসেনের বাবা আশাদুল ইসলাম বলেন, আজকে গোমস্তাপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে বেলাল বাজার এলাকায় অবস্থিত চার শতক জমির দলিল ও একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। আমার আগে জমি জায়গা কিছুই ছিল না। নদীর ধারে খাস জমিতে বসবাস করতাম। এখন জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে থাকতে পারবো।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানভীর আহমেদ সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য প. প. কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম, পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, রাধানগর চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক হিজবুল্লাহ, রাশেল আলী প্রমুখ। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন
স্মরণ সভায় জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সুস্থতা এবং শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।
প্রসঙ্গত, পতিত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকার শেরেবাংলা থানার সামনে তারিক হোসেনের পেটে চারটি ও হাতে একটি গুলি লাগে। চার দিন আইসিইউতে ভর্তি থেকে মারা যান তিনি। পরে ১০ আগস্ট তারিকের মরদেহ নিয়ে এসে গ্রামের বাড়ির গোরস্থানে দাফন করে তার পরিবার।