ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানীতে এক ব্যতিক্রমী ঈদ আনন্দ মিছিল আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। নানা আয়োজনের মধ্যে অন্যতম ছিল এই বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল, যেখানে শাহী ঘোড়া এবং ২০টিরও বেশি ঘোড়ার গাড়ি ছিল। মিছিলে ছিল ব্যান্ড পার্টি, সুলতানি ও মোঘল আমলের ইতিহাসের চিত্রকলা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এতে অংশগ্রহণ করেন।
এই আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকার ৪০০ বছরের ঈদ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় এবং ঢাকার মানুষ দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে, আনন্দ মিছিলে অন্যান্য সব কিছুর সঙ্গে একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল—গাধার পিঠে বসে থাকা লোককথার চরিত্র নাসিরুদ্দিন হোজ্জার একটি পাপেট বা প্রতিকৃতি। কিন্তু এই পাপেটটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা।
একটি পক্ষ প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন—না বুঝে সমালোচনা করা হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, পাপেটটি দেখতে অনেকটা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের মতো।
আরিফুর রহমান নামে একজন সামাজিক মাধ্যমে এই পাপেটের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ঈদ মিছিলে নেওয়ার জন্য ভ্যানে বসানো এই ভাস্কর্যটির নাম কী হওয়া উচিত বুঝতে পারছি না। নাসিরুদ্দিন হোজ্জা কি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব?
মাকামে মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, মূল কনসেপ্ট নাসিরুদ্দিন হোজ্জা কিন্তু চেহারার আদল নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে।
নাসিরুদ্দিন হোজ্জা—ছিলেন তুর্কী দার্শনিক ও রম্য লেখক। রম্যরচনায় সমাজের নানা অসংগতির কথা তুলে ধরতেন তিনি।
সমালোচনার বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছেন, বাংলা সাহিত্যেও নাসিরুদ্দিন হোজ্জা চরিত্র এসেছে। এটি একটি মেটাফোরিক চরিত্র, যা বাচ্চাদের পছন্দ। এ জন্য আমরা এটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। পুরো আয়োজনটিকে ঢাকাবাসী ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।
পাপেটটির নির্মাতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল হক বলেন, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার পাপেটটি তৈরি করতে আমরা একটি আরবি বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে ছবি নিয়েছিলাম। আমাদের মূল পরিকল্পনা ছিল শিশুদের জন্য কিছু জনপ্রিয় চরিত্র উপস্থাপন করা—যেমন, আলাদীন, আলী বাবার চল্লিশ চোর, এবং নাসিরুদ্দিন হোজ্জা।
তিনি বলেন, নাসিরুদ্দিন হোজ্জা ও জামায়াত আমির একই ধরনের ব্যক্তিত্বের নন। সেখানে চরিত্রটির চেহারা এবং পোশাকের কিছু মিল দেখা গেছে কিন্তু এটি কাকতালীয়।