সিনেমা মুক্তির আগেই আগে সালমান খান বলেছিলেন, “কোনওরকম বিতর্ক চাই না এবার।” কিন্তু ভাইজানের সেই প্রত্যাশায় জল! টিজার-ট্রেলারে ঝড় তুলে দিলেও সিনেমা মুক্তির পরই পড়তে হল চরম বিপাকে।
ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় পরিচালক এআর মুরুগাদোস। সেই প্রেক্ষিতেই ‘সিকান্দার’ সিনেমার বয়কটের ডাক দিলেন মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় মুসলিম সমাজকর্মী। তাঁর দাবি, সালমানের সিনেমা ‘সিকান্দার’ আদতে ‘ইসলামোফোবিক’।
ইদের আবহে মুক্তি পেয়েছে ‘সিকান্দার’। স্বাভাবিকভাবেই ভাইজানের এবারের ‘ইদি’ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ চড়েছিল। তবে গত তিনদিনে বক্স অফিসে সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি এই ছবি।
বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে ১০০ কোটির গণ্ডি পেরলেও ভারতে মোটে ৭৫ কোটি টাকা আয় করতে পেরেছে সালমানের সিনেমা। এমন আবহেই মুম্বাইয়ের সমাজকর্মী তথা পেশায় আইনজীবী শেখ ফায়াজ আলম ‘সিকান্দার’-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার ডাক দিয়েছেন।
তার আর্জি, ‘সিকান্দার’ ছবিটি না দেখে বরং গাজার ত্রাণ তহবিলে সাহায্য করুন। কিংবা মুসলিমদের শিক্ষা, আইন, রাজনীতিতে অর্থ বিনিয়োগ করুন।
ভারতীয় সেই সমাজকর্মীর সমস্যা আদতে মুরুগাদোসকে নিয়ে। আরও পরিষ্কার করে বললে, পরিচালকের বছরখানেক আগের সিনেমা ‘থুপাক্কি’ নিয়ে। সেই ছবিতে নাকি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রদর্শন করেছেন মুরুগাদোস। আর সেই প্রসঙ্গ টেনেই এবার ‘সিকান্দার’ বয়কটের ডাক দিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, সালমানের সিনেমা বয়কটের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শেখ ফায়াজ আলম বলেন, “এবার দেখার চিরাগ পাসওয়ান, নীতীশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো নেতারা মুসলিম সম্প্রদায়কে সমর্থন করবেন নাকি মুখ ফিরিয়ে নেবেন।”
এদিকে বিতর্কের জেরে হুড়মুড়িয়ে ৩২ শতাংশ শো কমেছে ‘সিকান্দার’-এর। জানা গেছে, ভারতের বেশ কিছু শহরে চাহিদা না থাকায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে সালমানের ছবির শো। বক্স অফিসের অঙ্ক দেখেও ভাইজান ভক্তদের একাংশ হতাশ হয়েছেন।
কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ দিয়ে কাতর আর্জি জানিয়ে লিখেছেন, ‘ফিরে এসো সালমান ভাই।’ তাহলে কি এবারও ফ্লপ পিচ থেকে ব্লকবাস্টার উড়ান নিতে পারলেন না ভাইজান? প্রশ্ন উঠেছে বিনোদুনিয়ায়।