কুমিল্লা তিতাসে মাদকসেবনের সময় এক যুবককে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বড় গাজীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুবেল বড় গাজীপুর এলাকার মৃত আলী মিয়ার ছেলে। তিনি বড় গাজীপুর বাস্তুহারা নামক একটি বস্তিতে বসবাস করতেন।
আটককৃতরা হলেন একই বস্তির বাসিন্দা থানার ডোম জয়নাল মিয়া (৫০) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে সুন্দর আলী। খুনের শিকার হওয়া রুবেল ও ঘাতক সুন্দর আলী একসঙ্গে চলত। তারা দুজন মাদকাসক্ত। বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে গাজীপুর গ্রামের প্রয়াত বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বুলবুল একটি জায়গা দান করেন স্থানীয় বাস্তুহারা মানুষের থাকার জন্য। ওই জায়গার নাম দেওয়া হয় গাজীপুর বাস্তুহারা। পরে সেখানে ২০টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস শুরু করেন। ৫ আগস্টের পর সেই বস্তিটি দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। কিন্তু রুবেল তাদের প্রকাশ্যে বলে বেড়াতেন, আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন এই বস্তি দখল করতে দেব না। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, হয়তো এসব কারণেই জীবন দিতে হয়েছে রুবেলকে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, একই এলাকার জয়নালের ছেলে সুন্দর আলীর সঙ্গে রুবেলের বন্ধুত্ব ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুন্দর আলী রুবেলকে খবর দিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। মাদকসেবনের একপর্যায়ে সুন্দর আলী কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রুবেলকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি কুড়াল ও হাতুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় এক শিশু সুন্দর আলীর ঘরের মধ্যে রক্ত দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জানালে তারা এসে দেখে রুবেলের নিথর রক্তাক্ত দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। পরে মোহাম্মদ আলী ওরফে সুন্দর আলী ও তার বাবা জয়নাল আবেদীনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেয়।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, রুবেলের সঙ্গে সুন্দর আলীর বন্ধুত্ব ছিল বলে জানতে পেরেছি। কী কারণে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। আমরা সব মোটিভ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালাচ্ছি। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, নিহত রুবেলের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা ও ডাকাতির প্রস্তুতির দুটি মামলা রয়েছে।