দেশে জ্বালানি সংকট ও শিডিউল লোডশেডিংয়ের জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ী করে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, সরকার বলেছিল নির্বাচন এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, অথচ ক্ষমতায় এসে তারা সংকটের নামে হরিলুটের সূচনা করেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারোয়ার তুষার। এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়েবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নানা পদক্ষেপ ও আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার তুষার বক্তব্য রাখেন।
গ্যাস পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি নির্দেশ করে দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার সময় দেড় কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলা হলেও গত ১৮০ দিনে দেশের অধিকাংশ কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি ফিল্মি স্টাইলে জঙ্গল সলিমপুরে গেছেন, যেন মনে হলো তার যাওয়ার পরই অঞ্চলটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এলো। অথচ তার পাশের এলাকা রাউজানে যেখানে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন হচ্ছে ও খুনাখুনি হচ্ছে সেখানে তিনি যাননি।’
তিনি বলেন, ‘মত প্রকাশে হস্তক্ষেপ করতে ৯৫ কোটি টাকা খরচ করে মনিটরিং যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। যেসব যন্ত্রপাতি দিয়ে মিডিয়াতে কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। মিডিয়া সংস্কারের অঙ্গীকার থাকলেও গণমাধ্যমে আওয়ামী পুনর্বাসন দেখা যাচ্ছে।’
মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনে ২০০৯ সালের আইনের চেয়েও দুর্বল আইন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের বসাতে সরকার তৎপর বলে অভিযোগ করেন।
বিএনপির আমলে ‘মব’ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে দাবি করে সারোয়ার তুষার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হলে এবং এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিএনপি পাঁচ বছরও ক্ষমতায় টিকবে না। প্রয়োজন হলে রাজপথে হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া বিএনপি জুলাই সনদকে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্বীকার করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকতা পালন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে তুষার অভিযোগ করেন।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় যুব শক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আবু বকর মজুমদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ এবং এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজাউদ্দিন।