বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলীকে দুর্নীতির মামলার আসামি হিসেবে দেখিয়ে নতুন করে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।
চলতি বছরের মার্চ মাসে তাদের বিষয়ে দেওয়া অনাপত্তিপত্র সংশোধন বুধবার (১২ আগস্ট) নতুন করে চিঠি ইস্যু করে করেছে বলে জানা গেছে।
দুদক পরিচালক মো. নাজমুল হাসান সই করা নতুন চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি দাখিলকৃত পৃথক দুই মামলায় সিএএবির সিভিল সার্কেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব এবং ওসমানী আন্তঃ বিমানবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মইদুর রহমান মো. মওদুদ এজাহারভুক্ত আসামি। যাদের মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভুলবশত হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে হোক একটি ভুল হয়েছে। দেরিতে হলেও সেই সেই অনাপত্তিপত্র সংশোধন করা হয়েছে। আগের ঘটনার জন্য কেউ যদি দায়ী থাকেন, তদন্ত হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান আগের অনাপত্তিপত্রটি ভুল ছিল উল্লেখ করে নতুন চিঠি দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দুদকে চিঠি পাঠায়। সেখানে বেবিচকের প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মওদুদের বিরুদ্ধে দুদকে কোনো মামলা তদন্তাধীন ও বিচারাধীন রয়েছে কি না, সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তবে মামলা থাকা সত্ত্বেও দুদক তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই বলে গত ১১ মার্চ অনাপত্তিপত্র দেয়। দুদকের ওই অনাপত্তিপত্র পাওয়ার পর বেবিচকের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবেও পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এরপরই অভিযোগ উঠে মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে দুই প্রকৌশলী অনাপত্তিপত্র নিয়েছেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজে শত শত কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ দুদকে আসে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪টি মামলা করে কমিশন।
মামলার এজাহার বলছে, আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ অনেকে রয়েছেন। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার সঙ্গে আসামি করা হয় বেবিচকের প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মওদুদকে। ওই মামলার তদন্ত বর্তমানে দুদকের মানি লন্ডারিং শাখায় তদন্ত চলমান রয়েছে।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজের প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আমিনুল হাসিব, মইদুর রহমান মওদুদসহ আসামিরা সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজের প্রকল্প অনিয়ম-দুর্নীতি করে কাজ শেষ না করে ২১২ কোটি টাকার বিল তুলে নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।
অপর মামলার বাদী ছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশিদুল হাসান। মামলায় অভিযোগ করা হয় কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও ভবন নির্মাণ প্রকল্প থেকে ১৫০ কোটি টাকা লুটপাট করে আত্মসাৎ করেছেন। মামলায় মোট আসামি ১২ জন।