সীমান্ত বিরোধ চলছে দুই প্রতিবেশি দেশ স্পেন ও মরক্কোর মাঝে। তারা আবার ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজকও, সঙ্গী আছে পর্তুগালও। তবে স্পেন-মরক্কোর যেকোনো একটি দেশ ফাইনাল আয়োজন করতে চায় বলে জানিয়ে আসছে। এমনকি সম্প্রতি কাসাব্লাঙ্কার ‘হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম’কে ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করেছে মরক্কো। কিন্তু ফিফা বলছে– সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি, ‘যথা সময়ে’ জানানো হবে!
গতকাল (বৃহস্পতিবার) স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা বলেছেন, ‘বেনস্লিমান শহর বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করবে। এটি ভালো লাগুক বা না লাগুক, আর এ নিয়ে কেউ কথা বলতে চাইলে বলুক। শহরটি বেনস্লিমান, স্টেডিয়াম হাসান টু। আর আমি আশা করি, মরক্কোই সেখানে ফাইনাল খেলবে।’
এদিকে, ফিফার এক মুখপাত্র ইএফই–কে জানিয়েছেন, ‘সংগঠনটি (ফিফা) ৫ আগস্ট যে ঘোষণা করেছিল, সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে।’ এর আগে ৫ আগস্ট আগামী মার্চের নির্বাচনে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থনের বিনিময়ে মরক্কোকে বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছিল সেটিও অস্বীকার করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
কাসাব্লাঙ্কার উপকণ্ঠে বেনস্লিমানে নির্মাণাধীন কিং হাসান টু স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ১৫ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ফাইনাল আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে স্পেনের হাতে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার স্টেডিয়াম। সংস্কার কাজ শেষ হলে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক ধারণ করা সম্ভব হবে। আর মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু’র বর্তমান ধারণক্ষমতা ৭৮ হাজার ২৯৭।
এর আগে চলতি সপ্তাহে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুয়ানও জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা সবাই প্রার্থিতা (আয়োজক স্বত্ব) মেনে নেওয়ার জন্য স্বাক্ষর করেছি… দুর্ভাগ্যজনক যে ফাইনাল ম্যাচটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সেটি পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। পুরুষ ও নারী– উভয় ফুটবলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনেরই ফাইনাল আয়োজন করা উচিত।’
তিন বছর আগে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক নিশ্চিত করার সময় তা ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি আদর্শ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। কিন্তু ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি মাদ্রিদ ও রাবাতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কও আগে থেকেই কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের সেউতা ছিটমহলে মরক্কোর নাগরিকদের ঢুকে পড়ার ঘটনায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয় বলে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর পাশাপাশি ২০৩০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই তিন দেশ একটি করে নিজ নিজ জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজন করবে। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের পুরো আসরই উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।