বিদেশের পরিচ্ছন্ন ও সুপরিকল্পিত সড়ক দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে—বাংলাদেশের শহরগুলো কেন একইভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয় না? রাজধানীর জুরাইনে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেই প্রসঙ্গই তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল সরকারের বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; এতে সাধারণ নাগরিকদেরও সমান ভূমিকা রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে খিলগাঁও ও জুরাইনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নগর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশের রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন থাকে, সেখানে শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করেন না, সাধারণ মানুষও যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলেন না। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য কোনো সরকারি পদ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘সরকারের কেউ হওয়ার দরকার নেই। এমপি হওয়ার দরকার নেই। মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই। মেয়র হওয়ার দরকার নেই। ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার দরকার নেই।’
নাগরিক দায়িত্ববোধের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাইরে চলাফেরার সময় টিস্যু, কাগজ বা অন্য কোনো বর্জ্য হলে তা নিজের কাছে রেখে পরে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা যেতে পারে। একইভাবে বাদাম খাওয়ার পর খোসা এমনভাবে ফেলতে হবে, যাতে আশপাশের পরিবেশ নোংরা না হয়। নিজের বক্তব্যে তিনি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও নগর পরিচ্ছন্নতার মধ্যে তুলনাও টানেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পরিষ্কার শার্টে খাবার বা চায়ের দাগ পড়লে যেমন অস্বস্তি লাগে, তেমনি নিজের বসবাসের পরিবেশ নোংরা থাকলেও খারাপ লাগা উচিত। তিনি মনে করেন, নাগরিকরা সচেতনভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে গড়ে তোলা সম্ভব।