গুমের অধ্যাদেশে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ফেনী শহরের একটি হোটেলে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, প্রত্যাশা ছিল বিএনপি কিছু দিক আরও ভালোভাবে সংস্কার, যাচাই-বাছাই ও সমৃদ্ধ করে জনগণের জন্য বাস্তবায়ন এবং আইনে পরিণত করবে। কিন্তু কিছুদিন আগে গুম অধ্যাদেশ যেভাবে আনা হয়েছে, সেটি আওয়ামী লীগের সময়ে গুমের যে আইন ছিল, কিংবা তার চেয়েও দুর্বলভাবে আনা হয়েছে। এটি আজ সংসদে উঠছে।
বিএনপির ৩১ দফা মুখের বুলি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু এটিই নয়, মানবাধিকার সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ রয়েছে, যেগুলো তারা বাতিল করেছে, সেগুলো পূর্বে যেমন ছিল, সেইভাবেই তারা আবার নিয়ে আসছে। যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংস্থা, কিছু সদস্যদের দ্বারা গুম হয়, তাদের কাছেই মামলা, অভিযোগ ও তদন্ত করাবেন। এর চেয়ে বড় প্রহসন তো কিছু হতে পারে না। বিএনপি আগের যে কাঠামো-ব্যবস্থা ছিল, সেখানে ফিরে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। দিনশেষে তাদের ১৬-১৭ বছরের এত কথা, ৩১ দফার কথা-সব মুখের বুলি, কাগজে-কলমের কথা। বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল নেই।
এনসিপির এ নেতা বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধীদল সংসদীয় ১৩টি স্থায়ী কমিটির সভাপতি পাওয়ার কথা। কিন্তু বিএনপি তা দিচ্ছে না। তারা যেকোনো জায়গায় ফাঁদ তৈরি করছে। এই ফাঁদের মধ্যে দু’একটি টোপ হিসেবে নিতে বলবে। আর তা না নিলে তারা সেটিকে এক্সকিউজ হিসেবে দেখাবে আমরা দিতে চেয়েছিলাম, নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদের প্রতিফলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বিএনপির কাছে সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা তো তা করেইনি, বরং বিরোধীদল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সেখানে যাওয়ায় এখন আবার প্রশ্ন তুলেছেন। তারা এমন ফাঁদ তৈরি করছে, আপনি অংশগ্রহণ করলেও দোষ, না করলেও দোষ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এখন পর্যন্ত এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এককভাবেই আমাদের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। আমরা এ লড়াই করতে চাই। হয়তো কোনো জায়গায় আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট পাবো না, কিন্তু শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, সদস্য সচিব শাহ ওয়ালি উল্লাহ মানিকসহ দলের কেন্দ্রীয় ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।