ডাকসুর সহ সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, সরকারকে ভূতে ধরেছে। ভূতের পা নাকি পিছনের দিকে, সামনে যত এগোতে চায়, ততই পিছনের দিকে যায়। গত ছয় মাস ধরে বিএনপি সরকারের দেখতে পারছি তারা এই দেশটাকে কীভাবে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে কীভাবে একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, সেটা নিয়ে তারা মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চাকরির নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকসুর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
সাদিক কায়েম বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলতে শুরু করেছেন, রিটেনটা কোনোমতে পাশ করো, ভাইভাতে আমরাই দেখব। তার মানে হলো, বিএনপি সরকার আপনাদের জন্য ভাইভা কার্ড করেছে।
তিনি বলেন, দেশে যে ২৭ লাখ বেকার আছে, এই বেকারদের পেটে এই বিএনপি সরকার লাথি মারবে। আমরা বিএনপি সরকারের ইতিহাস দেখেছি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সীমাহীন স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা দেশের মেধাকে ধ্বংস করেছিল।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, ২৪তম বিসিএসের কথা মনে আছে? এই ২৪তম বিসিএসে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে মানে এক কলেজ থেকেই ১০০-এর অধিক এসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, এই ভাইভা কার্ডের মাধ্যমে। ঠিক একই ভাইভা কার্ড, ভাইভা-কোটা কার্ড তারা আবার জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এটা কি আপনার প্ল্যান? একই প্ল্যান, যার মাধ্যমে আপনি ভাইভা কার্ড প্রচলন করতে চান? ১৭ বছর যে অভুক্ত ছিলেন, আপনার নেতারা যে অভুক্ত ছিলেন, এই বেকার যুবকদের পেটে লাথি মেরে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে আপনার কর্মীদের, আপনার নেতাদের পেট ভর্তি করতে চান? এই প্ল্যান আমরা ব্যর্থ করে দেব, ইনশাআল্লাহ।
সরকারপ্রধানের আশপাশের ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার আশপাশে যেই ভূতগুলো আছে, আপনার আশপাশে যারা আছে, আপনি তাদের ব্যাপারে সতর্ক হোন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনার আশপাশে যারা আছে, তারাই আপনাকে ডুবানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাদিক কায়েম বলেন, আপনি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অরাজক ব্যবস্থা বাতিল করুন। যদি না করেন, বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের সময় এ দেশের ছাত্রসমাজ যেভাবে রাজপথে নেমেছিল, তার চেয়েও শক্তিশালীভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে, প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কোটা কার্ড ও ভাইভা কার্ডের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে নামব, ইনশাআল্লাহ।
ভিপি বলেন, আজ সারা দেশে গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ সংকট, চাকরি সংকট। তারা এক কোটি যুবককে চাকরির ব্যবস্থা করবে বলেছিল। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রত্যেক জায়গায় বেকারদের হাহাকার। এই হচ্ছে তাদের পরিকল্পনা। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র আজ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সরকারকে অনুরোধ করছি, অনতিবিলম্বে এই ভাইভা কার্ড বাতিল করুন। শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি হবে এবং মেধার ভিত্তিতে আমরা এই রাষ্ট্রকে বিনির্মাণ করব।