জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, তার বাবা-মা এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছেন। একইভাবে তিনিও দেশ ও জনগণের স্বার্থে এবং শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ও বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৪টার পর ভাষণ দেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি তার গঠিত সরকারেরর বিভিন্ন পরিকল্পনা, গণতন্ত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কথা বলেন। ওই সময় নিজের বাবা-মায়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের ১১তম অধিবেশনে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট ভাষণ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ওই ভাষণে তিনি ধনী-দরিদ্র দেশের বৈষম্য, দারিদ্র, ক্ষুধা দূরীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
অপরদিকে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি তার ভাষণে গণতন্ত্র, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
জাতিসংঘে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সুফল যাতে বৈশ্বিকভাবে সবার কাছে পৌঁছায়, সে জন্য জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তার ভাষণে সামাজিক সুরক্ষা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, প্রযুক্তির বৈষম্য এবং এআই-র ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছায়। এ লক্ষ্যেই অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে সরকার। পাশাপাশি ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন কার্ড চালু করা হয়েছে। এসব কার্ড সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।