বিশ্বকাপের আগে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ২২ গোল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বিশ্বকাপে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে গ্রুপ পর্বের প্রত্যেক ম্যাচেই গোল করেছেন। কিন্তু সেই ফর্ম কোথায় যেন হঠাৎ করে হারিয়ে গেল!
রিয়ালের সুপারস্টার চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে আট ম্যাচ খেলে মাত্র এক গোল করেছেন। স্বাভাবিকভাবে তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গতকাল প্রীতি ম্যাচে গোল করার পর স্বীকার করলেন, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন তার আত্মবিশ্বাস তলানিতে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বিদায়ের হতাশা তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে।
সানকর্প স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন তিনি। নিয়মিত পেনাল্টি নেওয়া রাফিনিয়া চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার কারণে তিনি সুযোগ পান। যদিও আর্সেনাল মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারায়েসের পেনাল্টি নেওয়ার কথা। কিন্তু ভিনিসিয়ুসকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত রাখতে তাকে দায়িত্ব দেন।
ভিনিসিয়ুস গোলও পেয়ে যান। জাতীয় দলের সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন। এই ফরোয়ার্ড বললেন, বর্তমান মানসিক সমস্যা কাটাতে গুইমারায়েস ইচ্ছা করে তাকে পেনাল্টি নিতে দেন।
রিয়াল তারকা বললেন, ‘রাফিনিয়া না থাকলে সাধারণত আমাদের পেনাল্টি নেয় ব্রুনো গুইমারায়েস। আমি ভেবেছিলাম সে পেনাল্টিটা নিতে চায়। কিন্তু সে জানে এখন এই মুহূর্তে আমার একটু আত্মবিশ্বাস দরকার। আমার সতীর্থরা জানে আমার এখন কিছুটা আত্মবিশ্বাস দরকার। বিশ্বকাপে হেরে যাওয়া কষ্টে এবং এটা মেনে নেওয়া কঠিন। ঘুরে দাঁড়ানো কখনও সহজ নয়।’
গুইমারায়েস এই নিঃস্বার্থ মনোভাবের সমর্থন জানিয়ে দলের ঐক্যের ওপর জোর দেন। এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘এ কারণেই (পেনাল্টিটি ভিনিকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল)। পেনাল্টির ঘটনার পর অনেক কিছুই সামনে আসে। কিন্তু জাতীয় দলে আমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।’
তিনি বলে গেলেন, ‘বিশ্বকাপে আনচেলত্তি আমাকে পেনাল্টি নিতে বলেছিলেন। আজ তিনি ভিনিকে নিতে বললেন। ভিনির সত্যিই একটা গোল করার প্রয়োজন ছিল। সে ভালোভাবে এটা নিয়েছে। আমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার নেই। ব্রাজিলের জন্য যা সেরা, আমরা সেটা চাই। আমার তার জন্য খুশি এবং এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’