সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি ক্ষমতায় গেলে শিগগিরই ইউক্রেনে যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। সেই সঙ্গে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর তৎপরতাকে কমিয়ে আনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি টেলিফোনে ট্রাম্প এবং পুতিনের মধ্যে যে আলাপ হয়েছে, সেখানে পুতিনকে এসব কথা ট্রাম্প বলেছেন বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
ট্রাম্প এবং পুতিন পরস্পরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে রোববার জানিয়েছে রয়টার্সসহ বিশ্বের প্রায় সব প্রথম সারির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাসভবন মার-আ-লাগোতে টেলিফোনে কথা হয়েছে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে।
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন এই তথ্যকে কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
রোববার মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ট্রাম্প এবং পুতিনের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোকে ‘অসত্য’ এবং কাল্পনিক বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
পেসকভ বলেন, “তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো কথাবার্তা হয়নি। যেসব সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলো পুরোপুরি অসত্য এবং কাল্পনিক।”
“আর এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রমাণ করছে যে তাদের মান নিচে নেমে গেছে।”
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তি মেনে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য তদবিরের জেরে কয়েক বছর টানাপোড়েনের পর গত ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী, যা এখনও চলছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজে এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ অভিযানে গত প্রায় তিন বছরে উভয়পক্ষের হাজার হাজার সামরিক-বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনে যখন অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা জো বাইডেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাঁধার পর বাইডেন প্রশাসন দ্ব্যর্থহীনভাবে ইউক্রেনের সমর্থনে দাঁড়িয়ে যায় এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে শত শত নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি ইউক্রেনে কোটি কোটি ডলার সহায়তা প্রদান করতে থাকে। গত প্রায় তিন বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বাইডেন প্রশাসনের এ পদক্ষেপের কঠোর সমালোচক ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একাধিকবার তিনি বলেছেন যে ওয়াশিংটনের উচিত ইউক্রেনে অর্থ সহায়তা পাঠানো বন্ধ করা এবং রাশিয়ার সংঙ্গে শান্তি সংলাপ শুরু করার জন্য ইউক্রেনকে চাপ দেওয়া।
আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রোববার ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, ইউক্রেনকে বাইডেন প্রশাসনের সর্বশেষ সহায়তা হিসেবে ৬০০ কোটি ডলার শিগগিরই পাঠানো হবে। ২০ জানুয়ারির পর থেকে ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।