আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটের সম্ভাব্য সমাধান এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হওয়ার বিষয়ে বিভিন্নমুখী ইঙ্গিতের ফলেই মূলত বাজারে এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদনের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা। দিনজুড়ে তেলের দামে নজিরবিহীন ওঠানামার পর ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের মূল্যে ভিন্নধর্মী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই দাবির বিরোধিতা করে জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের খসড়া এখনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত হয়নি। তেহরানের এমন অবস্থানের পর থেকেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা আরও গভীর আকার ধারণ করে।দিনের শুরুতে অবশ্য তেলের বাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল। ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ফিউচারসের দাম এক ধাক্কায় ২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার ঘোষণা দিলে বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান রিটারবুশ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা যেকোনো যুদ্ধংদেহী বার্তায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। আবার হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সামান্য ইঙ্গিত মিললেই বড় ব্যবধানে দাম কমে যাচ্ছে। সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলার থেকে নেমে সর্বনিম্ন ৯৩ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছায়। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে তা প্রায় ৯৪ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হয়। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম সামান্য বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯০ ডলারে স্থিতিশীল হয়।
তবে শুক্রবার সকালের বাজারচিত্রে আবারও দরপতনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এদিন সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি কমে ৯২ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় সমপরিমাণ কমে ৮৭ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্ববাজারে তেলের এই অস্থিরতা ও দরপতনের ধারা আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের।