অল্প সময়ে দ্বিগুণ মুনাফার প্রতিশ্রুতি, শেয়ারের দাম বাড়ার গুজব আর প্রতিষ্ঠিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নকল করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। সামাজিক মাধ্যমকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া এসব প্রতারণা শুধু ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে ঝুঁকিতে ফেলছে না, প্রশ্নের মুখেও ঠেলে দিচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে ৮১টি মেসেঞ্জার গ্রুপ, এক হাজারের বেশি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক পেজ এবং ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহারের তথ্যও উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতারণার ফাঁদ শনাক্ত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি আর্থিক শিক্ষার প্রসার, তথ্য যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন।
নিশ্চিত মুনাফার আশ্বাসেই প্রতারণার শুরু
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে লাভের সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে লোকসানের ঝুঁকিও। কিন্তু এই বাস্তবতা আড়াল করে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত মুনাফার প্রলোভন দেখাচ্ছে প্রতারক চক্র। কোথাও এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অল্প সময়ের মধ্যে দুই লাখ টাকা পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও নির্দিষ্ট শেয়ারের দাম কয়েক দিনের মধ্যে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার দাবি করা হচ্ছে। আবার কখনো গোপন তথ্য পাওয়ার কথা বলে দ্রুত বিনিয়োগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এসব প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও অনভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো। বিশেষ করে নতুন ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, বাজারের গতিপ্রকৃতি ও বিনিয়োগের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন।