আনন্দবাজার পত্রিকা এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের অঞ্জো জেলায় চীনা সেনা ৬০ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে ঘাঁটি স্থাপন করেছে। স্থানীয়রা এবং ভারতীয় সেনার মালবাহকরা এই দাবি করেছেন। এর আগেও ভারত-চীন সীমান্তে একাধিকবার চীনা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, অঞ্জো জেলার চাগলাগাম এলাকা থেকেই দুবছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন দুই ভাই। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের অদূরেই এক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তারা। চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ওষুধি গাছের খোঁজে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন তারা।
প্রতিবেদন মতে, স্থানীয়দের দাবি, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) হাতে বন্দি রয়েছেন তারা। ভারতীয় সেনাদের কাছে একাধিকবার নিখোঁজদের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি।
অঞ্জোর বিধায়ক ও রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী দাসাংলু পুল স্থানীয় সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘চীন এখনও সরাসরি স্বীকার করেনি ওই দুই যুবক তাদের হেফাজতে রয়েছে কি না। তবে আমাকে বলা হয়েছে, বেঁচে আছেন দু’জনেই।’
যদিও অঞ্জোতে চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্যের কোনো মন্ত্রী এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
উপরোক্ত দুই ভাই ছাড়াও ভারত-চীন সীমান্ত থেকে আগেও নিখোঁজ হয়েছেন একাধিক মানুষ। এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সুবানসিরি জেলা থেকে পাঁচ যুবকের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খোঁজ মেলে।
তারা এক সপ্তাহ চীনা সেনাবাহিনী পিএলএ’র হাতে বন্দি থাকার পর ঘরে ফেরেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ২০২২ সালেও এক কিশোর ৯ দিন চীনা সেনার হাতে বন্দি ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: অরুণাচল নিয়ে উত্তেজনা /চীন-ভারত দ্বন্দ্বের শেষ পরিণতি কী?
এর আগেও ভারতের ভূখণ্ডে একাধিকবার চীনা অনুপ্রবেশের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৯ সালে চীন-অরুণাচল সীমান্তে আমাকো ক্যাম্পের কাছে দইমরু নালার উপর কাঠের অস্থায়ী ব্রিজ বানিয়েছিল চীন। ২০২০ সালে দিবং জেলাতেও ঢুকে পড়েছিল চীনা বাহিনী।
২০২২ সালের আগস্টে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, পিএলএ সেনারা অরুণাচলের হাদিগ্রা লেকের কাছে অবকাঠামোগত কার্যক্রম তদারকি করছে, যেখানে তিনটি এক্সক্যাভেটর খনন কাজ করছিল। এবার চীনা সেনারা রাজ্যের কাপাপু এলাকায় প্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া গেল।