নতুন ফরম্যাটে ১২টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টটিতে ১৪ দল অংশ নেবে বলে প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে পরে সেটি ১২–তে নামিয়ে আনা হয়। এ ছাড়া স্বাগতিক দেশসহ ১০ দল সরাসরি এবং বাকি দুই দলের বাছাই প্রক্রিয়া দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহ।
আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল খেলবে বিশ্বকাপের মূলপর্বে। তাদের সঙ্গে কোনো হিসাব ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে যুক্ত হবে। ফলে র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ১০ দলই সুযোগ পাবে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার। এরপর বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল হবে ১১তম দল। আরেকটি দল আসবে বাছাইয়ে ১২, ১৩ ও ১৪তম অবস্থানে থাকা দলগুলোর ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়ে।
‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে আইসিসির নতুন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ১৯৯৯ আসরে অস্ট্রেলিয়ার চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। তিনি বলেন, ‘এটি পেছনের দিকে চলার প্রক্রিয়া। ওয়ানডে বিশ্বকাপ ১৪ থেকে কমিয়ে ১২ দলে করা হচ্ছে। আমি এর যৌক্তিক ভিত্তি জানি না। যখন আপনি ফিফা বিশ্বকাপের দিকে দেখবেন, তারা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দল নিয়ে টুর্নামেন্ট করছে, আর আমরা ক্রিকেটে ভিন্ন পথে হাঁটছি।’
‘যদি আমরা এটিকে একটি বৈশ্বিক খেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, তবে আমাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে চলতে হবে এবং অন্যান্য দলকে উৎসাহিত করতে হবে। আরও বেশি প্রতিযোগিতা এবং শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার মাধ্যমেই কেবল উন্নতি করা সম্ভব’, আরও যোগ করেন তিনি।
আইসিসির নতুন ফরম্যাটে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত এর আগে স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। এ নিয়ে চলতি আগস্টে ইউরোপীয় দুটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড যৌথভাবে বিবৃতিও দেয়। বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘আইসিসি পুরুষদের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ শুরুর আর ১৮ মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে টুর্নামেন্টের বাছাই প্রক্রিয়া ও কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার যে সিদ্ধান্ত আইসিসি নিয়েছে, তাতে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড এবং রয়্যাল ডাচ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গভীরভাবে হতাশ।’
তারা আরও জানায়, ‘(বিশ্বকাপ ফরম্যাটে) এসব পরিবর্তন সহযোগী সদস্য দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং বিশ্বজুড়ে এই খেলার প্রসারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা নস্যাৎ করার ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন এক সময়ে যখন ক্রিকেট তার পরিধি বিস্তার, নতুন দর্শক আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে, তখন উদীয়মান দেশগুলোর জন্য অর্থবহ সুযোগ কমিয়ে দেওয়াটা খুব ভুল বার্তা দেয়।’