কোনো মৌলিক কারণ ছাড়াই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেডের শেয়ারের দামে আবারও অস্বাভাবিক উত্থান দেখা দিয়েছে। মাত্র আট কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) লেনদেন শেষে শেয়ারটির দাম দাঁড়িয়েছে ২৭৩ টাকা।
ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারের এই অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে মঙ্গলবার কোম্পানিটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ডিএসই। জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।
ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারের এই উত্থান এমন সময়ে ঘটছে, যখন দেশের অনেক ব্লু-চিপ কোম্পানির শেয়ারই ক্রেতা আকর্ষণে হিমশিম খাচ্ছে। জ্বালানি-সংকট এবং সামগ্রিক বাজারে দুর্বল বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের মধ্যে পুঁজিবাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বুধবার লেনদেন শেষে অরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ১৪৪। বিপরীতে ডিএসইর সামগ্রিক বাজারের পিই রেশিও ছিল প্রায় ৯। অর্থাৎ সামগ্রিক বাজারের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ার অত্যন্ত উচ্চ মূল্যায়নে লেনদেন হচ্ছে।
এ ধরনের অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যায়ন বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে খুচরা বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের দাম বিপরীত দিকে দ্রুত ঘুরে গেলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।
এর মধ্যে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক ফলাফলও শেয়ারের সাম্প্রতিক উত্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চলতি বছরের মার্চে শেষ হওয়া তৃতীয় প্রান্তিকে ওরিয়ন ইনফিউশনের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কমে ৫৫ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, কোম্পানিটির বর্তমান অবস্থার বিবেচনায় শেয়ারের দামের এমন উত্থান অস্বাভাবিক।
অধ্যাপক আবু আহমেদ আরও বলেন, তুলনামূলক কম পরিচিত অনেক কোম্পানির শেয়ার তাদের শিল্প খাতের অন্য কোম্পানির তুলনায় প্রায়ই ভালো করতে দেখা যায়, যদিও এসব কোম্পানির ব্যবসা, আর্থিক ফলাফল এবং লভ্যাংশের রেকর্ড তুলনামূলকভাবে সীমিত।
তার ভাষ্য, দুর্বল পারফরম্যান্সের অনেক শেয়ার এখনো একশ্রেণির বিনিয়োগকারীর কাছে পছন্দের, যদিও এসব শেয়ার কারসাজির শিকার বলে মনে করা হয়।
কম লেনদেন হওয়া শেয়ারের দামে হঠাৎ ও ব্যাখ্যাতীত ওঠানামা নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন।
ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারে এবারই প্রথম এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি। এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম একপর্যায়ে ৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সে সময়ও শেয়ারের দামে এত বড় উত্থানের ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো কোনো দৃশ্যমান করপোরেট উন্নয়ন ছিল না।
ফলে সাম্প্রতিক এই উত্থানের পর অরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারের দাম প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভিত্তিতে বাড়ছে, নাকি জল্পনামূলক লেনদেনের কারণে বাড়ছে-সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।