ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) শিল্পখাত ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগানো এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতি বিকাশ নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ‘ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেটিভ ইভেন্ট ২০২৬’-এর প্রথম পর্বে ‘স্ট্রেন্থেনিং স্টার্ট-আপ, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনা হয়।
উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ), শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন।
ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ইউজিসির নীতিগত সহায়তা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তবমুখী ও বাজার উপযোগী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইউজিসি নীতিগতভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অ্যাজেন্ডা হিসেবে শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারে এ বছর জাতীয় পর্যায়ে ইনোভেশন ফেয়ারও আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এ বছর বাজেটে স্টার্টআপ সংস্কৃতি উন্নয়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। এ কারণে ডুয়েট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে কাজ করছে। কার্যকর অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এ ধরনের আলোচনা তিন মাস পরপর ডুয়েটে আয়োজন এবং ছয় মাস পরপর ইউজিসিতে প্রতিবেদন পাঠানোর কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডুয়েটের পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন।
পরে ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ ‘ডুয়েটে গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন সুবিধাদি’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অবকাঠামো ও উদ্ভাবন সহায়ক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি দিনব্যাপী আলোচনার বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিডিরেন, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, নেসলে বাংলাদেশ, আকিজ সিরামিকস, উর্মি গ্রুপ, ম্যাক্স গ্রুপ, জেনকোর সল্যুশনস, ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেড, মাসকো গ্রুপ, ডিক্যাথলন, র্যাঙ্কন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইনোভেশন আইটি লিমিটেড, জি-উইজেটস কোম্পানি লিমিটেড ও ইকোটেক্স লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইভেন্টের দ্বিতীয় পর্বে শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে ‘দ্য ফিউচার অব ইয়ুথ ইন বাংলাদেশ ইন দ্য পারস্পেকটিভ অব অন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও সমাপনী বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।