ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে হ্যারি কেইনের সঙ্গে লামিনে ইয়ামালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। পুরস্কারটির জন্য ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা এই দুই তারকার পারফরম্যান্স ও অর্জন নিয়েই চলছে সবচেয়ে বেশি আলোচনা।
গত মৌসুমে কেইনের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ক্লাব ও ইংল্যান্ডের হয়ে জাতীয় দল মিলিয়ে তিনি ৭৩ গোল করেছেন। বায়ার্নকে জার্মানির ঘরোয়া ডাবল জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করে দলকে তৃতীয় স্থানে তুলতে অবদান রাখেন এই স্ট্রাইকার।
অন্যদিকে ইয়ামালের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি তার বয়স ও অর্জন। ১৯ বছর বয়সেই স্পেনের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ জিতেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ। ক্লাব ফুটবলেও তার পারফরম্যান্স তাকে এবারের পুরস্কারের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী করেছে।
ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন ইয়ামাল। তার মতে, শুধু গোলসংখ্যা দিয়ে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা উচিত নয়। বরং যিনি খেলোয়াড় মাঠে আলাদা কিছু করে দেখান এবং দর্শকদের খেলা দেখতে আগ্রহী করে তোলেন, পুরস্কারটি তারই প্রাপ্য—এমনটাই মনে করেন তিনি।
কেইনকে নিয়েও ইয়ামালের বক্তব্য বেশ পরিষ্কার। গোলসংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে কে সেরা খেলোয়াড়—ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে সেটিই বিবেচনায় আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি। নিজের দাবির পক্ষে অবশ্য ইয়ামাল তার জেতা ট্রফিগুলোকেও সামনে আনছেন।
এদিকে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল প্রকাশ্যে কেইনের পক্ষ নিয়েছেন। তার মতে, কেনের গত মৌসুমের পারফরম্যান্স তাকে পুরস্কারটির জন্য শক্ত দাবিদার করে তুলেছে। তবে ইয়ামাল ও কেন—দুজনের পক্ষেই শক্ত যুক্তি আছে বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনও।
ব্যালন ডি’অরের এবারের লড়াইয়ে তাই ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দলীয় সাফল্য, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স এবং মাঠে খেলোয়াড়ের প্রভাব—সবকিছুই আলোচনায় আসছে। কেইনের গোলের ধারার বিপরীতে ইয়ামাল সামনে রাখছেন নিজের সৃজনশীলতা, বয়স এবং জেতা শিরোপাগুলো।