গালাগালি ও হামলার রাজনীতি চললে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে ফেনী শহরের মিজান রোডে জেলা এবি পার্টির কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সমালোচনা করতে গিয়ে অরাজনৈতিক, অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার যেমনি কাঙ্ক্ষিত নয়, তেমনি কারও কথার প্রতিশোধ হিসেবে হামলা, চক্ষু উৎপাটন এবং গাড়ি ভাঙচুর মোটেও কাম্য নয়। এসব ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি। এ রাজনীতি থেকে সবাই মিলে সরে না এলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ব্যর্থ হয়ে যাবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন ও অপূর্ণতার কথা উল্লেখ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, প্রত্যেক সংগ্রামেরই সফলতা ও ব্যর্থতার দিক থাকে, জুলাইয়েরও আছে। সফলতার ভাগ যারা দাবি করবেন ব্যর্থতার দায়ও তাদের নিতে হবে। জুলাই যাদের ক্ষমতা দিয়েছে আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়ভার তাদেরই বেশি।
তিনি বলেন, ক্ষমতার বাইরে থাকা তারেক রহমানকে যারা দিনের পর দিন কুলাঙ্গার, দুর্নীতির বরপুত্র ইত্যাদি বলে গালি দিয়েছেন এবং নিষ্ঠুর নির্যাতন করে পঙ্গু করে দিয়েছিলেন তাদের অপরাধ বেশি? নাকি যারা ক্ষমতায় আসীন তারেক রহমানকে তাদের ভাষায় কুরুচিপূর্ণ শব্দে সমালোচনা করছেন তাদের অপরাধ বেশি?
বিএনপির সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, যারা গালিগালাজ ও নির্যাতন নিষ্পেষণে বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, বিএনপি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল। আর যারা বিএনপির সঙ্গে হাত ও কাঁধ মিলিয়ে বিএনপির শত্রুদের পতন ঘটিয়ে তাদের ক্ষমতাসীন হতে সাহায্য করেছে, আজ তাদের বিরোধিতাকে বিএনপি সহ্য করতে পারছে না। বিএনপি তাদের প্রতি নিষ্ঠুর ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে। এসব পরিস্থিতি অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি। পতিত ফ্যাসিবাদের আস্ফালন মোকাবিলায় জুলাইয়ের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নতুন অধ্যায়ের রচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্যাসিবাদ সরকার বাংলাদেশের মসনদ দখল করেছিল। জুলাই আন্দোলন চলাকালে খুনি শেখ হাসিনা পাখির মতো গুলি করে আমাদের ভাই-বোনদের হত্যা করেছে। এই জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূর্যোদয় হয়েছে। বিশেষ করে এই ফেনী জেলায় নিজাম হাজারী নামক একটি কলঙ্কময় অধ্যায়ের কবর রচনা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনীর সাবেক সমন্বয়ক মোহাইমিন তাজিম বলেন, শুধু প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণেই একই জনপদের মানুষ হয়েও তারা (আওয়ামী লীগ) ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আমাদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি করেছিল। এদেশে আমরা আর প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই নাই। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আসুন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করি।
জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ফজলুল হকের সঞ্চালনায় সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এতে আরও বক্তব্য দেন— জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রশিদ মজুমদার, জাগপা ফেনী জেলা সভাপতি মো. সাইফ উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সদস্যসচিব শাহ ওয়ালি উল্লাহ মানিক, জাতীয় ছাত্রশক্তি জেলা আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন শাকিল, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি জিয়া উদ্দিন, শহীদ কাউসারের বাবা মাওলানা আনোয়ার হোসেন, এবি পার্টির পৌর সদস্যসচিব রিজওয়ানুল খায়ের, এবি যুব পার্টির জেলা সদস্যসচিব ইব্রাহিম সোহাগ এবং শহীদ শ্রাবণের পিতা নেছার আহমদ।
এ সময় এবি পার্টির ফেনী জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহের হোসেন বাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক নাজরানা হাফিজ অম্লান, সহ-দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ডলি, সদর উপজেলা আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, সদস্যসচিব আবু সাইদ খান, যুগ্ম সদস্যসচিব রোটারিয়ান সবুজ, এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শফিউল্যাহ পারভেজ, ছাত্র পক্ষের আহ্বায়ক নুসরাত জাহান প্রমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মুয়াজ মুবাসসিরসহ এবি পার্টি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।