সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের ভেতরে চেয়ার ও সোফা বসিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের অংশগ্রহণে সভা করার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সভা হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবাদ জানিয়েছে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এ আয়োজন করা হয়। পরে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সভার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোদলা কওমিয়া মাদরাসা ও জামে মসজিদের উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বকেয়া অর্থ পরিশোধে সহযোগিতা চেয়ে সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় অতিথিদের বসার জন্য মসজিদের ভেতরে চেয়ার ও সোফার ব্যবস্থা করা হয়।
ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর মসজিদের ভেতরে এভাবে চেয়ার-সোফা বসিয়ে সভা আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, কোদলা কওমিয়া মাদরাসা ও জামে মসজিদ পরিচালনার কাজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়ার জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানায়।
তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে মসজিদ ও মাদরাসার ভেতরে চেয়ার ও সোফা বসানো অবস্থায় দেখা যায়। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। আয়োজক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আমরা অংশ নিই।
এদিকে সোমবার রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ দুলাল হোসেন খান এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি জানায়, একটি সংবাদে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সভা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা সঠিক নয়।
প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়, কোদলা কওমিয়া মাদরাসা ও জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে প্রতিষ্ঠান দুটির উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা এবং দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকসহ স্থানীয় নেতারা সেখানে যান। অতিথিদের বসার জন্য চেয়ার ও সোফার ব্যবস্থা মসজিদ-মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে করে।
সেখানে কোনো দলীয় সভা, রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, স্লোগান কিংবা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতারা শুরুতে মসজিদের মেঝেতে বসেছিলেন। পরে মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাদের চেয়ারে বসার অনুরোধ করেন। এ সময় মসজিদ ও মাদরাসার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে মসজিদ, মাদরাসা এবং কবরস্থানে দাফন করা মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, প্রকাশিত ছবিতে সংসদ সদস্যকে সোফায় বসা অবস্থায় দেখা গেলেও দোয়া ও মোনাজাত এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়টি ছবিতে বা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উঠে আসেনি। ফলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে পাঠকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।