পলাতক ফ্যাসিস্ট ভারতে গিয়ে কলকাঠি নাড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে আর দেশের ভেতর গুপ্ত-সুপ্তরা সেখানে পাখা দিয়ে বাতাস দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ সবসময় চক্রান্তকে পদদলিত করেছে এবং ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে সত্যের আলোকে বিকিরণ করতে সহযোগিতা করেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এই বাংলাদেশ সত্যের বাংলাদেশ, বীরত্বের বাংলাদেশ, ঐতিহ্যের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আপনার মিথ্যার জাল রচনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
তিনি বলেন, আজ যারা বিরোধী দলের নেতারা রয়েছেন, বড় বড় কথা বলছেন, অপপ্রচার করছেন, বাজে কথা বলছেন, বিএনপির নেতাদের নামে, সরকারের নামে মিথ্যা কলঙ্ক লিপন করছেন। তারা কি খবরের কাগজ পড়েন না? তাদের সঙ্গে কি গণমাধ্যমের সম্পর্ক নেই? বাংলাদেশের এত সংকট মোকাবিলা করেও সরকার তার জনগণের কাছে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের যতটুকু উৎপাদন রয়েছে এবং মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো থেকে যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, সেটা দিয়েই তো এ সরকার জ্বালানি এবং গ্যাসের ব্যবস্থা করছে। অথচ আপনারা বলেন ‘গেল গেল সব শেষ হয়ে গেল।’ বিএনপি সরকার কিছু করতে পারছে না। আজকে খবরের কাগজ পড়ে দেখুন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বলছে, এ সরকারের, তারেক রহমানের সরকারের অর্থনীতি যে একটু উন্নতির দিকে যাচ্ছে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রিজভী বলেন, আপনারা কি এটা দেখেন না? আগের প্রধানমন্ত্রী ১৫০-২০০ জন লোক নিয়ে প্রবাস ভ্রমণে যেতেন। সেটা জাতিসংঘের অধিবেশন হোক বা অন্য কিছু। আর আজকের প্রধানমন্ত্রী সফরে গেছেন মাত্র ৩৫ জন লোক নিয়ে। তাহলে দেশকে কে ভালোবাসে? দেশের টাকা কে সাশ্রয় করতে চায়? ১৫০ জন লোক নিয়ে শেখ হাসিনা সফরে যেতেন। নিউইয়র্ক থেকে ফেরার সময় লন্ডনে তার ভাতিজির সঙ্গে দেখা করতেন। তার আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করে সেখান থেকে যেতেন ফিনল্যান্ডে। সেখানে কি নাকি শোনা যায় তার আরও আত্মীয় স্বজন রয়েছে। সেখানে নাকি বাংলাদেশ থেকে পাচার করার টাকার খোঁজখবর নিতে যেতেন। তারপর ফিনল্যান্ড থেকে ঢাকায় আসতেন আর তারেক রহমান মাত্র পাঁচ থেকে ছয়দিনের সফর শেষে দেশে ফিরবেন। এরপরেও কি আপনাদের বুঝ হয় না। এ সরকার এ সংকট মোকাবিলায় কত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, এ সংকট প্রধানমন্ত্রী কীভাবে মোকাবিলা করছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য তিনি কীভাবে সাশ্রয় করছেন। এটা কি আপনারা দেখেন না? আপনাদের চোখ ঝাপসা, সেকারণে আপনারা দেখতে পারবেন না।