চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আবুল মুনছুর (৪৬) নামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার নয় দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকায় তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল।
নিহত আবুল মুনছুর গোলাবাড়িয়া এলাকার খলিল ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সালামত উল্লাহ ওরফে জুনুর ছেলে। মৃত্যুর পর তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। গতকাল বাদ আসর হযরত ওমর ফারুক (রহ.) মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় মোজাফফর আহমেদ ভূঁইয়ার নতুন বাড়ির সামনে মুনছুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মুনছুরের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় মেহেদি হাসান ওরফে রানা, জাহাঙ্গীর, আমির হোসেন, আলমগীর, সাইমন, মহিন উদ্দিন, আশিক ও নিশানকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া, অজ্ঞাত পরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজ কুমার বংশী বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নয় দিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই সময় মুনছুর আহত হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত রোববার তার স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।