পশ্চিমবঙ্গের সিনেমায় তাকে বলা হয় ‘মিস্টার ইন্ডাস্ট্রি’। চার দশক ধরে টলিউড মাতিয়ে রেখেছেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। মশলা সিনেমার নায়ক থেকে বৈচিত্র্যময় সব চরিত্রের অভিনেতা, পর্দায় প্রসেনজিতের উপস্থিতি বিস্ময়ের মতোই।
আজ এই নন্দিত তারকার জন্মদিন। ৬৪-তে পা রাখলেন বুম্বা দা। বিশেষ দিনে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী আর সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন অভিনেতা।
জন্মদিনে আনন্দবাজারের এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন প্রসেনজিৎ। গত এক-দেড় দশকে প্রসেনজিৎ এত এত ব্যতিক্রম চরিত্র করেছেন, এখন তাকে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে ভিন্ন চরিত্রের জন্য।
প্রসেনজিৎ বলেন, ‘এত চরিত্র করে ফেলেছি। এখন ভাবতে হয়, নতুন আর কী করব! চরিত্র বাছতে খুব কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে। সহজে আর এ রকম চরিত্র আসছে না, যা আগে করিনি। ভাঙাচোরারও তো একটা সীমা আছে। আর আলাদা কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।’
এই না-পাওয়ার সঙ্গে ক্ষুধাটাও এখনো রয়েছে প্রসেনজিতের। যেমন এ বছরের মধ্যেই দুটি ভিন্ন ছবিতে রকস্টার ও ডাক্তার চরিত্রে হাজির তিনি। চেষ্টা কি কম করছেন। প্রসেনজিৎ জানান, এখন যেসব চরিত্র তার কাছে আসে, সেরকম চরিত্র গত কয়েক বছরে করে ফেলেছেন তিনি। ফলে ছবি বেছে নিতে ঝক্কি পোহাতে হয় অভিনেতাকে।
তবু এ সময়ে এসে কিছুই কি নেই বাকি? কী ধরনের চরিত্র করার ইচ্ছে এখনো পুষে রেখেছেন বুম্বা? জবাব দেন এভাবে, ‘‘গডফাদার’-এ মার্লন ব্র্যান্ডোর চরিত্রটার মতো কিছু করার ইচ্ছা নিশ্চয়ই আছে!’’
প্রসঙ্গত, প্রসেনজিতের জন্ম ১৯৬২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, খ্যাতিমান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে। শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম পর্দায় আগমন। আর নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে ‘দুটি পাতা’ (১৯৮৩) দিয়ে। আর ১৯৮৭ সালের ‘অমর সঙ্গী’ দিয়ে তিনি তারকাখ্যাতি পান। সেই দাপট এখনো অব্যাহত রেখেছেন অভিনেতা।