তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পরও কাটছে না মৃত্যুরহস্য। বরং তদন্ত যত এগোচ্ছে, সামনে আসছে নতুন নতুন প্রশ্ন। নিখোঁজ হওয়ার আগে শেষবার যার সঙ্গে তাকে দেখা গিয়েছিল, সেই বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের বক্তব্য, পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশের পোশাকধারী ব্যক্তিদের ধাওয়ার দাবি এসব নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সেদিন রাতে তাহসিফের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, কোথায় কীভাবে তাদের পথ আলাদা হলো এবং কীভাবে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হলো-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে দ্বীপের বক্তব্যে পুলিশের পোশাক পরা দুই ব্যক্তির ধাওয়ার বিষয়টি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা, তারা আদৌ পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না কিংবা তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না-এসবের কোনোটিই এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। পরিবারকে তিনি জানিয়েছিলেন, দ্বীপ এসেছেন, তার সঙ্গে দেখা করে আসবেন। বাসার সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের দিকে দ্বীপ একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের বাসার গ্যারেজে আসেন। সাত মিনিট পর, সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে পৃথক মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
এরপর আর বাসায় ফেরেননি তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌপুলিশ। মরদেহের সঙ্গে পাওয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন এবং জানাজা শেষে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ থাকা দ্বীপের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার নয়, বরং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ জানিয়েছেন, তারা টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে তার বক্তব্য এখনো তদন্তকারীদের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদ রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, দ্বীপ জানিয়েছেন, তাকে ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কেন তারা সেখানে গিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।