জনগণের ভাষা ও দাবি মেনে না চললে অতীতের স্বৈরাচারী সরকারগুলোর মতোই বর্তমান সরকারকেও দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতের মূল্যায়ন ও সম্মান করা। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে নির্বাচন ও গণভোটের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে জনগণের রায়কে তোয়াক্কা না করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী জনগণের এই ভোট ও রায়কে সম্মান না জানাবে, ততদিন পর্যন্ত তাদেরকে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী সর্বদা আপসহীন।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেশি সময় ক্ষেপণ না করে অনতিবিলম্বে জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের যে শপথ, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। যদি সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা না হয়, তবে দেশজুড়ে আবারও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষস্থানীয় নেতারা। সমাবেশটির সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।