‘তোদেরকে দেখে নিব। তাই বলে ওরা চলে যায়। আনুমানিক রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তারা আবার আসে। আমার আব্বাকে তারা ধাওয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। সামান্য টাকা ভাঙতির জন্য এটা তারা করেছে। নেশাগ্রস্ত তারা। এই তুচ্ছ একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা আমার বাবাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি তাদের বিচার অবশ্যই চাই। তাদের ফাঁসি যেন হয়।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহী নগরীর ডিঙাডোবায় নিহত বারিউল ইসলামের (৪০) অনার্স পড়ুয়া একমাত্র ছেলে মোহম্মদ তানভীর হোসেন।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে একটার দিকে তানভীরের বাবাকে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তানভীর দাবি করেন, দোকানও ভাঙচুর করেছে। এলাকাতে ইটপাটকেল মারে। পেট্রোল বোমাও হামলা করে। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে আমাদেরকে ভয় দেখায়। দোকানে আমার প্রায় দেড় লাখ টাকার সিগারেট ছিল, লুট হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তানভীর বলেন, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক ৭টার সময় এখানে (দোকানে) তিনজন এসেছিল এই গলিতে মাদক কিনতে, হয়তো বা। তারা এসে আমার দোকানে একটি ২০০ টাকার নোট দিয়ে বলে ভাঙতি করে দাও। আমি (তানভীর) দুইটা ১০০ টাকার নোট দিয়েছিলাম। তারা বলছে ১০০ টাকা আবার দুইটা ৫০ টাকা করে দাও। আমি বলছি যে নাই। আমার আব্বা (বারিউল) ঘুম থেকে কেবলই উঠে এসে দাঁড়িয়েছে এখানে। উনারা আমার আব্বাকে বলছে ভাঙতি দিল না কেন? তাই বলে আমার আব্বার কলার ধরে নিয়েছে। কলার ধরে আমার আব্বাকে মারছে। আমি তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করি। পরে আমার আরো চাচারা এলাকাবাসী সবাই এসে ওদেরকে ছুটাতে গিয়ে ওরা ড্রেনে পড়ে যায়। ওদের একজনের মাথা ফেটে যায়। তখন ওনারা বলে তোদেরকে দেখে নিব। তাই বলে ওরা চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, আনুমানিক রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তারা আবার আসে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নিয়ে আসে। তাদের হাতে বড় বড় রামদা ছিল, পাশলি (ধারানো হাসুয়া) ছিল এবং অস্ত্রও ছিল। তারা আমাদের উপরে হামলা করে। আমার আব্বাকে তারা ধাওয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আব্বাকে বাঁচাতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। তারা মেডিকেলে ভর্তি আছে। আমার আব্বার কুপিয়ে মেরেছে। সামান্য ভাঙতির জন্য এটা তারা করেছে। নেশাগ্রস্ত তারা। এই তুচ্ছ একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা আমার বাবাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি তাদের বিচার অবশ্যই চাই। তাদের ফাঁসি যেন হয়।
এরআগে দুপুর ১২টার দিকে ডিঙাডোবা এলাকার নিহত বারিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, স্বজনদের আহাজারি করতে। বারিউল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে এলাকার মোড়ে ভ্যারাইটি স্টোর দিয়ে ব্যবসা করেন। তার দোকানের নাম তানভীর ভ্যারাইটি স্টোর। নিহতের স্বজনদের দাবি- গতকাল শনিবার মূলত এই দোকানে ঘটনার সূত্রপাত। এই দোকানেও ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। দোকানের সামনে পেট্রোল বোমা পড়ে ছিল। দোকানের বারান্দায় আগুনের ধোঁয়ার কালি লেগে আছে। এছাড়া দোকানের মালামাল এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর আইনশৃখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আলমত সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। এই ঘটনায় বিকেল তিনটার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানায় নিহতের স্ত্রী কয়েজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরআগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহ নিয়ে আসা হয় ডিঙাডোবা এলাকায়। এরপর বাদ আসর মহিষবাথান কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।