বলিউডের বাদশাহ, রোমান্সের রাজা কিংবা কোটি ভক্তের স্বপ্নের নায়ক—যে নামেই ডাকা হোক, তিনি শাহরুখ খান। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের রাজত্ব ধরে রেখেছেন কিং খান। রোমান্টিক নায়ক থেকে অ্যাকশন সুপারস্টার, খলনায়ক থেকে ভিন্নধর্মী চরিত্র—সবখানেই নিজের অভিনয়দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
আজ ২ নভেম্বর, ৬১ বছরে পা রাখলেন বলিউডের এই মহাতারকা। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তার জীবন, সংগ্রাম, সাফল্য ও সিনেমার জগতে দীর্ঘ পথচলার গল্প।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। দিল্লিতে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ব্যারি জনের কাছে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর আশির দশকের শেষ দিকে টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে বিনোদনজগতে যাত্রা শুরু করেন।
১৯৮৮ সালে টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফৌজি’তে অভিনয় করে প্রথম পরিচিতি পান শাহরুখ। এরপর ‘সার্কাস’সহ বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন। টেলিভিশনের সেই পরিচিতিই একসময় তাকে বলিউডের দরজা খুলে দেয়।
খলনায়ক হয়ে অভিষেক, তারপর রোমান্টিক নায়ক

১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় শাহরুখের। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার পাশাপাশি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা নবাগত অভিনেতার স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।
তবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই প্রচলিত নায়কের চরিত্রে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ‘বাজিগর’, ‘ডর’ ও ‘আঞ্জাম’-এর মতো সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি পিছপা নন। বিশেষ করে ‘বাজিগর’ ও ‘ডর’ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কাজলকে সঙ্গে নিয়ে অভিনীত এই সিনেমা শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রাজ মালহোত্রা চরিত্রে শাহরুখ হয়ে ওঠেন কোটি তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলা ছবির মর্যাদা পেয়েছে।
এরপর ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এবং ‘কাভি খুশি কাভি গম’-এর মতো সিনেমা তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
অভিনয়ের বৈচিত্র্যে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া
শাহরুখের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্য। শুধু প্রেমের গল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
‘দেবদাস’ সিনেমায় প্রেমে ব্যর্থ এক মানুষের যন্ত্রণা, ‘স্বদেশ’-এ দেশপ্রেমিক বিজ্ঞানী, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’তে হকি দলের কোচ এবং ‘মাই নেম ইজ খান’-এ ভিন্নধর্মী এক চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।